বিয়ের প্রয়োজন নেই, আট বছর বাগদানের পর সম্পর্কের নতুন সমীকরণ জানালেন পূজা বেদি

দীর্ঘ আট বছর ধরে আংটি বদলের পর কেন বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন না বলিউড অভিনেত্রী পূজা বেদি এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী মানেক কন্ট্রাক্টর—এই প্রশ্নটিই গত কয়েক বছর ধরে বিনোদন পাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সম্প্রতি এক খোলামেলা আলাপচারিতায় নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে সব সংশয় দূর করলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই তারকা। বিয়ের প্রথাগত নিয়মনীতিতে যে তিনি আর বিশ্বাসী নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
পূজা বেদি মনে করেন, সম্পর্কের গভীরতা বজায় রাখার জন্য আইনি সিলমোহর বা বিয়ের সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, এনগেজমেন্ট মানেই তো একে অপরের প্রতি অকৃত্রিম অঙ্গীকার। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি কেবল কাগজের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে সরকারকে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়াতে রাজি নন। তাঁর স্পষ্ট কথা, একজন সঙ্গী যখন আঙুলে আংটি পরিয়ে সারাজীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন সেই সম্পর্কের গভীরতা আর নতুন করে কোনো প্রমাণের মুখাপেক্ষী থাকে না।
ব্যক্তিগত জীবনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে সন্তানদের ভবিষ্যতের সুরক্ষাকেও অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন পূজা। পূজা এবং মানেক দুজনেই অতীতে বৈবাহিক জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং তাঁদের আগের সংসারে সন্তান রয়েছে। অভিনেত্রী মনে করেন, আইনি জটিলতামুক্ত সম্পর্কে থাকলে সম্পদ বণ্টন বা উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলো অনেক বেশি স্বচ্ছ থাকে। তাঁর কথায়, নিজের সম্পদ তাঁর সন্তানদের কাছে এবং মানেকের সম্পদ তাঁর সন্তানদের কাছে পৌঁছে যাওয়াই অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত।
আর্থিক স্বনির্ভরতাকেও সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তিনি এবং মানেক দুজনেই পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং আর্থিকভাবে স্বাধীন। তাই নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বিয়ের খাঁচায় বন্দী হতে তিনি নারাজ। পূজা অকপটে স্বীকার করেছেন, তিনি বিয়ের প্রতিষ্ঠানটিকে সম্মান করলেও, নিজের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সেই পথে আর হাঁটতে চান না। তবে তিনি মনে করেন, অন্যদের জন্য বিয়ে একটি সুন্দর অনুভূতি হতে পারে, কিন্তু তাঁর জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে এক রোমাঞ্চকর মুহূর্তে হট-এয়ার বেলুনে চড়ে পূজা বেদিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মানেক কন্ট্রাক্টর। সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার চেয়ে ভালোবাসার এই স্বাধীন আর সহজ জীবনযাত্রাটাই এখন পূজা এবং মানেকের কাছে পরম প্রাপ্তি। সম্পর্কের কোনো আইনি সিলমোহর না থাকলেও, ভালোবাসার এই অঘোষিত বন্ধনেই তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন জীবনের পূর্ণতা।
