পার্ক স্ট্রিটের অভিজাত হোটেলে হেনস্থার শিকার সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় সুরক্ষার অভাব নিয়ে সরব শিল্পী

শহরের প্রাণকেন্দ্র পার্ক স্ট্রিটের অভিজাত এক হোটেলের গ্ল্যামারাস অন্দরমহলে এক অস্বস্তিকর ঘটনার শিকার হলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও বাচিক শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে হোটেলের ঐতিহ্যবাহী পাবে আয়োজিত ৩২ বছর পূর্তির জমকালো অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং প্রিয় এই গন্তব্যে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতায় রীতিমতো হতবাক শিল্পী। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খোলা চিঠি পোস্ট করেছেন তিনি, যা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে শহরজুড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত এক অপরিচিত ব্যক্তির অভদ্র আচরণের মাধ্যমে। সুজয় প্রসাদের অমতে তাঁকে শারীরিকভাবে স্পর্শ করার পাশাপাশি অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিকর প্রস্তাব দিতে থাকেন ওই ব্যক্তি। বিষয়টির তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানালেও অভিযুক্তের ঔদ্ধত্য কমেনি, বরং মুম্বই উড়ে যাওয়া বা ব্যক্তিগত বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানোর মতো আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন তিনি।
শিল্পীর অভিযোগ, হোটেলের কর্মী এবং নিরাপত্তা রক্ষীরা এই ঘটনার সময় একেবারেই নির্বিকার ছিলেন। প্রথমবার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, দ্বিতীয়বার যখন শিল্পী নিজে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করতে যান, তখন হোটেলের কর্মীরা উল্টে তাঁকেই বাধা দেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি অনায়াসে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটকানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সুজয় প্রসাদের মতে, কোনো বিশেষ খাতির না চাইলেও, একজন নাগরিক হিসেবে নামী প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেলটিকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে মনে করতেন সুজয় প্রসাদ। কিন্তু এই ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক মানসিকতা এবং গ্রাহক সুরক্ষার অভাব নিয়ে তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিল্পীরা সেখানে কেবল বিনোদনের উপকরণ নন, বরং তাঁদের মর্যাদা ও সুরক্ষা বজায় রাখা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ওই পাবে আর কখনও পা না রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এই শিল্পী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই উত্তাল হয়ে ওঠে সংস্কৃতি অঙ্গন। বিষয়টি নজরে আসতেই হোটেলের মালিক সুজয় প্রসাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। যদিও মালিকের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে, তবুও অপরাধীকে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ক্ষান্ত হবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে স্থির এবং নিরাপদ রয়েছেন বলে ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন।
