Advertisement

মায়ের প্রয়াণ দিবসে আবেগঘন স্মৃতিচারণায় শ্রীলেখা মিত্র

বিতর্কের ঘূর্ণাবর্তে প্রতিনিয়ত আবর্তিত হলেও আপসহীন ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত টলিউডের সাহসী অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। কর্মজীবনের নানা টানাপোড়েন আর রাজনৈতিক মতাদর্শের জেরে সৃষ্ট প্রতিকূলতাকে একপাশে সরিয়ে রেখে, ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর ক্ষত আজ প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। আগস্ট মাসের বিষাদ মাখা স্মৃতির ঝুলি খুলে শ্রীলেখা ফিরে গেলেন সেই অতীতে, যখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ—মা—পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছিলেন না ফেরার দেশে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মা-বাবার একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে লেখেন, সন্তানদের জীবনে মায়েরা যেন এক অদৃশ্য ছায়ার মতো, যাদের গুরুত্ব আমরা সবসময় বুঝতে পারি না। শৈশবে মা যখন জনসমক্ষে তাঁকে পরম আদরে ‘সোনামণি’ বলে ডাকতেন, তখন কিশোরী শ্রীলেখার মনে হতো চরম অস্বস্তি। লজ্জা থেকে অনেক সময় সেই ডাকে সাড়াও দিতেন না তিনি। অথচ আজ জীবনের এই ধাপে এসে শ্রীলেখার উপলব্ধি, সেই ‘সোনামণি’ ডাকটিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যা হারিয়ে আজ তিনি নিঃস্ব।

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালে মায়ের প্রয়াণের পর থেকে আগস্ট মাস শ্রীলেখার কাছে এক মিশ্র অনুভূতির দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানের আইনি জটিলতা এবং রাজনীতির উত্তপ্ত আবহের মাঝে দাঁড়িয়ে অভিনেত্রী স্বীকার করেন, আগস্ট মাস তাঁর জীবনে একইসাথে প্রাপ্তি ও বিচ্ছেদের এক অমোঘ মাস। মায়ের সেই চিরাচরিত অভিযোগ—’তুই বাবাকে বেশি ভালোবাসিস’—এর মর্মার্থ আজ শ্রীলেখা নিজের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতায় নতুন করে খুঁজে পাচ্ছেন। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন, ভালোবাসার অন্দরে কতটা গভীর অভিমান লুকিয়ে থাকে।

অভিনেত্রীর আফসোস, মাকে যথাযথ ভালোবাসার কথা হয়তো সেভাবে বলা হয়ে ওঠেনি, কারণ চিরকাল পাশে থাকবেন এমনটাই ছিল ধারণা। কিন্তু বিধির বিধানে মায়ের সেই চলে যাওয়া ছিল বড় অকাল। আজ যখন তাঁর নিজের কন্যা ঐশী বড় হয়েছে এবং পড়াশোনার সূত্রে দূরে রয়েছে, তখন মায়ের অভাব যেন আরও তীব্রভাবে অনুভূত হয়। প্রাক্তন স্বামী শিলাদিত্য সান্যালের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরেও মেয়েকে আগলে রাখা এবং শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে মধুর সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে শ্রীলেখা প্রমাণ করেছেন, সম্পর্কের টানাপোড়েন ছাপিয়ে মানবিকতা ও ভালোবাসাই শেষ সত্য। মায়ের উদ্দেশ্যে তাঁর আকুল প্রার্থনা, যদি আজ আরও একটিবার সেই ‘সোনামণি’ ডাক শোনা যেত!

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%