সাত কোটি থেকে চার হাজার কোটি টাকার রূপান্তর রামানন্দ সাগরের রামায়ণ বনাম নীতেশ তিওয়ারির বিগ বাজেট সিনেমা

সিনেমা জগতের আলোকজ্জ্বল গলি থেকে রাজপথ, সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এবং রণবীর কাপুর অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত মহাকাব্যিক সিনেমা ‘রামায়ণ’। দীপাবলির আবহে মুক্তি পেতে যাওয়া এই বিগ বাজেটের প্রজেক্টটি নিয়ে যেমন উত্তেজনা তুঙ্গে, তেমনই সময়ের ব্যবধানে বদলে যাওয়া নির্মাণের বিশালতাও এখন নেটপাড়ায় আলোচনার খোরাক। বিশেষ করে রামানন্দ সাগরের কালজয়ী টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘রামায়ণ’-এর সাথে নতুন এই ছবির বাজেটের আকাশ-পাতাল পার্থক্য রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো।
সত্তরের দশকের শেষে এবং আশির দশকের শুরুতে রামানন্দ সাগরের হাত ধরে যে ‘রামায়ণ’ ভারতীয় টেলিভিশনে নতুন ইতিহাস গড়েছিল, তার বাজেট ছিল মাত্র সাত কোটি টাকা। ৭৮ পর্বের সেই অমর সৃষ্টিতে প্রতি পর্বের শুটিংয়ে ব্যয় হতো প্রায় নয় লক্ষ টাকা, যেখানে আয় হতো প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা। সেই সময়কার প্রযুক্তিতে তৈরি মাত্র সাত কোটি টাকার এই প্রজেক্টটি বিশ্বজুড়ে প্রায় একত্রিশ কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছিল, যা আজও এক বিস্ময়কর পরিসংখ্যান। ৫৫টি দেশে সম্প্রচারিত এই ধারাবাহিক ৬৫ কোটি দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল, যা টেলিভিশনের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। এমনকি ২০২০ সালে লকডাউনের সময় পুনঃসম্প্রচারেও একটি পর্ব সাত কোটি সত্তর লক্ষ দর্শক দেখে এক অভাবনীয় নজির স্থাপন করেছিল।
তবে সময়ের স্রোতে বিনোদন জগতের সংজ্ঞাও বদলেছে। রামানন্দ সাগরের সেই সরল অথচ অনবদ্য উপস্থাপনার বিপরীতে রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’ নির্মিত হচ্ছে বিশ্বমানের প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক ভিএফএক্স ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে। ভারতীয় পুরাণকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে হলিউডের সমতুল্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতায় তুলে ধরাই এখন নির্মাতাদের মূল লক্ষ্য। আর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জনেই প্রজেক্টটির বাজেট পৌঁছেছে চার হাজার কোটি টাকার মাইলফলকে।
একদিকে নস্টালজিয়া আর আবেগে মোড়ানো রামানন্দ সাগরের সেই কালজয়ী সৃষ্টি, আর অন্যদিকে নমিত মালহোত্রা প্রযোজিত প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ‘রামায়ণ’—দুই যুগের এই বিশাল বাজেটের ব্যবধান ও নির্মাণের ভিন্নতা প্রমাণ করে যে, বিনোদন দুনিয়ায় গল্প বলার ভাষা ও পরিধি প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রণবীর কাপুর রামের চরিত্রে কতটা দ্যুতি ছড়াতে পারেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগুনতি ভক্তরা।
