AdvertisementAdvertisement

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে অকপট আজমেরী হক বাঁধন

জুলাই মাসের উত্তাল গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথ কাঁপানো সাহসী কণ্ঠস্বর আজমেরী হক বাঁধন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বারবার রাজপথে নেমেছেন তিনি। কখনো ছদ্মবেশে, আবার কখনো বোরকা পরে সাধারণ মানুষের মিছিলে শামিল হওয়া বাঁধনের কাছে ৫ আগস্ট কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এক নতুন স্বপ্নের সূচনা ও পরবর্তীকালে গভীর বিষণ্ণতার আখ্যান। গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে নিজের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান চলচ্চিত্রের বাস্তবতা নিয়ে অকপট এই অভিনেত্রী।

স্মৃতির পাতায় ফিরে গিয়ে বাঁধন জানান, প্রথম আগস্টের সেই উত্তপ্ত দিনে সহকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের সাথে সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশের বাঁধার মুখে পড়ার ঘটনাটি তার সাহসকে আরও শাণিত করেছিল। নারায়ণগঞ্জের ছোট্ট রিয়া গোপের মর্মান্তিক মৃত্যু তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল, যা তাকে ঘরে বসে থাকতে দেয়নি। এরপর ২ আগস্ট জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রোহযাত্রায় শামিল হওয়া ছিল তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

৫ আগস্টের সকালটি ছিল এক অনিশ্চয়তার দোলাচল। পরিবারের কান্নাকাটি ও বাধা উপেক্ষা করে বোরকা পরে যখন তিনি রাস্তায় নামেন, তখন কালশী ফ্লাইওভারজুড়ে হাজারো মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার দেখেছিলেন। রিকশায় চড়ে ঢাকা শহর ঘুরে মানুষের সেই উল্লাস প্রত্যক্ষ করাটা তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। তবে সেই পরিবর্তনের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় বাঁধনের কণ্ঠে এখন আক্ষেপের সুর। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মব কালচার, মাজার ভাঙা বা নারীর প্রতি সহিংসতার মতো ঘটনাগুলো তাকে ভীষণভাবে হতাশ করেছে। তার ভাষায়, যে অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা এখনো অধরা রয়ে গেছে।

চলচ্চিত্রের জগতে কাজ পাওয়া নিয়ে নিজের লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেছেন এই তারকা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় কাজের সুযোগ পাননি তিনি। রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি তাকে সেই হতাশা থেকে কিছুটা মুক্তি দিয়েছিল, যা বর্তমানে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। বাঁধন মনে করেন, শিল্পীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, কাজের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি নিজেও গত এক বছরে মাত্র তিনটি সিনেমায় কাজ করেছেন, যা একজন শিল্পীর আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য যথেষ্ট নয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নতুন কাজের ক্ষেত্রে নারীপ্রধান চরিত্র ও গল্পের গভীরতাকে প্রাধান্য দেন তিনি। সম্প্রতি ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমায় নাম লেখানোর বিষয়টিও তার সেই ধারারই অংশ। জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের পছন্দ ও স্বাধীনতাকে সঙ্গী করেই পথ চলছেন এই মেধাবী অভিনেত্রী। কাজের সংখ্যায় নয়, বরং কাজের মানেই তিনি নিজেকে খুঁজে পেতে চান। ৫ আগস্টের এই দিনে, নিহত ও আহতদের পরিবারের হাহাকার আজও তাকে বিচলিত করে, যা তাকে মনে করিয়ে দেয়—শহীদদের আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ এখনো অনেকটাই বাকি।

0%
0%
0%
0%