হাস্যরস থেকে গাম্ভীর্য সুনীল গ্রোভারের বর্ণিল ক্যারিয়ারের গল্প

ভারতীয় বিনোদন জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সুনীল গ্রোভার আজ পা রাখলেন জীবনের আরও একটি নতুন বছরে। হাস্যরসের জাদুকর থেকে শুরু করে জটিল মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রে সাবলীল অভিনয়—সুনীল গ্রোভারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার যেন এক রূপকথার গল্প। ১৯৭৭ সালের ৩ আগস্ট হরিয়ানার সিরসায় জন্ম নেওয়া এই তারকা মুম্বাইয়ের গ্ল্যামার দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন অদম্য সাহস ও একাগ্রতায়।
চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিনয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর স্বপ্নের শহর মুম্বাইয়ে পা রেখেছিলেন সুনীল। শুরুর দিনগুলো ছিল চরম অনিশ্চয়তার। অডিশনের পর অডিশন দিয়েও মিলছিল না বড় কোনো সুযোগ। বিজ্ঞাপন, ছোট চরিত্র কিংবা রেডিও জকি হিসেবে কাজ করে নিজের অতিক্রান্ত সংগ্রামের দিনগুলো আজ তাঁর সাফল্যের মুকুটে এক একটি উজ্জ্বল পালক। ‘হাসি কে ফোয়ারে’ রেডিও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
২০১৩ সালে কপিল শর্মার শোতে ‘গুথি’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান। লম্বা বেণি আর অদ্ভুত হাঁটার ভঙ্গিতে সেই গুথি আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন। পরবর্তীতে ‘রিঙ্কু ভাবি’ কিংবা ‘ডক্টর মশহুর গুলাটি’—প্রতিটি চরিত্রই তিনি নিজস্বতায় ভাস্বর করে তুলেছিলেন। এক সময় কপিল শর্মার সঙ্গে বিবাদের জেরে তাঁর শো ছাড়ার ঘটনাটি বিনোদন মহলে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ভক্তদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-তে তাঁদের এই পুনর্মিলন ছিল টিআরপি তালিকার অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত।
তবে সুনীল কেবল কমেডির গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রাখেননি। ‘বাগি’, ‘ভারত’, ‘গুডবাই’ কিংবা শাহরুখ খানের ব্লকবাস্টার ‘জওয়ান’ সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছে, অভিনয়ের যেকোনো সূক্ষ্ম রঙ ফুটিয়ে তুলতে তিনি সিদ্ধহস্ত। ‘তাণ্ডব’ বা ‘সানফ্লাওয়ার’-এর মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সিরিজে তিনি নিজেকে একজন শক্তিশালী চরিত্রাভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে সুনীল ভীষণ অন্তর্মুখী। স্ত্রী আরতি ও সন্তানকে নিয়ে নিজের গণ্ডিতে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। ২০২২ সালে হৃদ্যন্ত্রের জটিলতায় বাইপাস সার্জারির সময় ভক্তরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, অদম্য এই শিল্পী দ্রুতই কর্মক্ষেত্রে ফিরে এসে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। আজ তিনি ভারতীয় বিনোদন জগতের অন্যতম সফল ও নির্ভরযোগ্য মুখ। টেলিভিশন, ওটিটি সিরিজ, সিনেমা কিংবা লাইভ শো—প্রতিটি মাধ্যমেই তাঁর পারিশ্রমিক আকাশচুম্বী। তবে অর্থের চেয়েও বড় বিষয় হলো তাঁর সেই সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, যা প্রতিটি চরিত্রকে প্রাণবন্ত করে তোলে। পরিশ্রমের বিনিময়ে আজ তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তা লক্ষ লক্ষ উদীয়মান শিল্পীর জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
