AdvertisementAdvertisement

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো গায়ক সঞ্জয় দেবের বিশ্বজয়ের গল্প

ফুটবল বিশ্বকাপের গ্ল্যামারাস মঞ্চে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গায়ক সঞ্জয় দেবের পারফরম্যান্স কেবল বিশ্বসংগীতের মানচিত্রেই নয়, বরং প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এক অনন্য উচ্চতার মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফার মতো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞের উদ্বোধনী আয়োজনে কোনো বাংলাদেশি তারকার এমন সরব উপস্থিতি এর আগে কখনো দেখা যায়নি। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকা সফরে এসে নিজের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন এই তরুণ মিউজিশিয়ান।

কানাডার মঞ্চে বিশ্বমঞ্চের আলো ঝলমলে সেই অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সঞ্জয় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, এটি কেবল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মানই নয়, বরং দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের এক পরম প্রাপ্তি। শৈশবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বিশ্বমঞ্চের সুপারস্টার হিসেবে কল্পনা করতেন যে কিশোর, আজ তিনিই বিশ্বের কোটি মানুষের সামনে নিজের সুরের জাদুতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, তার জীবনের দর্শন হলো হয় জয়লাভ করা, নয়তো কিছু শেখা; পরাজয় বলে তার অভিধানে কোনো শব্দ নেই।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সঞ্জয়ের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য স্বপ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে বেড়ে ওঠা এই শিল্পী একসময় পরিবারের অভাব অনটন লাঘব করতে নিজের সবটুকু দিয়ে লড়ছেন। ছোটবেলায় আঙ্কেলের উপহার দেওয়া একটি ল্যাপটপ আর মিউজিক সফটওয়্যার তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই নিজেকে গড়ে তুলতে শুরু করেন ‘ওয়ান ম্যান ব্যান্ড’ হিসেবে। তবলা বাদনের তাল থেকে ডিজেিং—সব মাধ্যমেই তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে তার পরিহিত জ্যাকেটটি ছিল এক কথায় শিল্পকর্ম। সেখানে ফুটে উঠেছিল জাতীয় ফুল শাপলা, রাজকীয় রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার শৈল্পিক সংমিশ্রণ। বিশ্ববাসীর কাছে নিজের শেকড়কে তুলে ধরার এই সচেতন প্রয়াস মুগ্ধ করেছে অগুনতি দর্শককে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফ্লোরে ঘুমিয়ে দিন কাটানো সেই সংগ্রামের দিনগুলো এখন তার কাছে কেবলই অতীত। ল্যাপটপে বিট বিক্রি করে টিকে থাকার সেই কঠিন সময়েও তিনি মিউজিকের প্রতি নিজের প্রেম কখনো হারাননি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় সঞ্জয় দেব বেশ উচ্চাশী। তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলার সুরকে পৌঁছে দিতে চান নতুন আঙ্গিকে। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে অস্কার আর গ্র্যামির মতো বিশ্বসেরা পুরস্কারগুলোও যেন বাংলাদেশের ঝুলিতে আসে—এমনটাই তার বর্তমান লক্ষ্য। নিজের মা-বাবার জন্য ঢাকায় একটি জমকালো কনসার্ট করার স্বপ্নও বুনে রেখেছেন তিনি। কাওয়ালি থেকে রবিশঙ্করের ধ্রুপদী সুর—সবই তার গানের অনুপ্রেরণা। অনাগত দিনে বাংলা গান বিশ্বসংগীতের নতুন অধ্যায় রচনা করবে, এমন প্রত্যয়ই ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ তুর্কি।

0%
0%
0%
0%