শৈশবের ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের স্মৃতি নিয়ে মুখ খুললেন সোমি আলি

বলিউডের গ্ল্যামারের চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার ও মর্মান্তিক অধ্যায় সামনে নিয়ে এলেন প্রাক্তন অভিনেত্রী ও সলমন খানের সাবেক প্রেমিকা সোমি আলি। শোবিজ অঙ্গনের ঝকঝকে জীবনের বাইরে যে এক ভয়াবহ শৈশব তিনি কাটিয়েছেন, তা শোনার পর স্তম্ভিত গোটা বিনোদন জগৎ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের বীভৎস অভিজ্ঞতার কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন এই তারকা, যা রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে নেটিজেনদের।

বিজ্ঞাপন

নিধি বসন্দানিকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে সোমি আলি জানান, মাত্র চার বছর বয়স থেকে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হতে শুরু করেন। এরপর পাঁচ বছর বয়সে তাদের বাড়ির রাঁধুনি এবং নয় বছর বয়সে গৃহকর্মীদের লালসার শিকার হওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি। সোমির ভাষ্যমতে, শৈশবের সেই ভয়ংকর দিনগুলোতে তাকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত হতে হয়েছিল, অথচ সমাজের ভয়ে ও পরিবারের নির্দেশে তাকে বছরের পর বছর মুখ বুজে সব সহ্য করতে হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সোমি আক্ষেপ করে বলেন, যখন তিনি প্রথমবার তার বাবাকে বাড়ির রাঁধুনি আব্দুল খানের কুকীর্তির কথা জানিয়েছিলেন, তখন সেই অপরাধীকে শাস্তি দিলেও বিষয়টি নিয়ে তাকে চুপ থাকতে বলা হয়েছিল। পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশেষ করে তার মায়ের কঠোর নির্দেশ ছিল, এই ঘটনা যেন বাইরে প্রকাশ না পায়, কারণ তাতে বিয়ের বাজারে মেয়ের সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে। বাবা-মায়ের এই রক্ষণশীল মানসিকতা ও নীরব থাকার চাপ সোমির মনে এক গভীর ট্রমা বা ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যা থেকে তিনি আজও পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেননি।

নিজের অতীতে ঘটা প্রতিটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোমি আলি বলেন, রক্তক্ষয়ী সেই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হওয়া ছিল এক ছোট শিশুর জন্য অসহনীয়। কিন্তু সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। পরিবারের সদস্যদের সেই সময়ের প্রতিক্রিয়া ও সমাজকে দোষারোপ করে তিনি জানান, অভিভাবক হিসেবে বাবা-মায়ের সমর্থন না পাওয়া এবং ঘটনার সত্যতাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা তাকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। সোমির এই সাহসী স্বীকারোক্তি এখন বি-টাউনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং শৈশবে নিগ্রহের শিকার শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%