বক্স অফিসে তোলপাড় ফেলা হরর ছবি অবসেশন ও এক অশুভ ইচ্ছাপূরণের অন্ধকার যাত্রা

কাউকে মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসেন, কিন্তু মুখ ফুটে বলার সাহস পাচ্ছেন না? এমন সময় যদি হাতের নাগালে চলে আসে অদ্ভুত এক জাদুর কাঠি, যা আপনার পছন্দের মানুষটিকে মুহূর্তেই আপনার প্রেমে পাগল করে তুলবে—তাহলে কী করবেন? এমনই এক রোমাঞ্চকর অথচ ভয়াবহ পরিণতির গল্প নিয়ে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে হরর থ্রিলার ‘অবসেশন’। চলতি বছর মুক্তি পাওয়া মাত্র ১২ কোটি টাকা বাজেটের এই সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করে রীতিমতো বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘অবসেশন’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র বিয়ার, যে কি না একটি বাদ্যযন্ত্রের দোকানের অন্তর্মুখী ও লাজুক কর্মচারী। সহকর্মী নিকির প্রতি তার দীর্ঘদিনের একতরফা প্রেম, কিন্তু প্রকাশের সাহস তার নেই। ভাগ্যের পরিহাসে বিয়ার খুঁজে পায় ‘ওয়ান উইশ উইলো’ নামের এক প্রাচীন বস্তু, যা থেকে পাওয়া একটি ইচ্ছা পূরণ হতে বাধ্য। সে ইচ্ছা করে, নিকি যেন পৃথিবীর অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে তাকেই বেশি ভালোবাসে। ব্যস, শুরু হয় এক দুঃস্বপ্নের যাত্রা! নিকির ব্যক্তিত্বে আমূল পরিবর্তন আসে, যা শুরুতে বিয়ারের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হলেও দ্রুতই তা রূপ নেয় এক ভয়ংকর ও অন্ধকার বাস্তবতায়।

পরিচালক ক্যারি বার্কার ইউটিউব থেকে উঠে আসা এক প্রতিভাবান নির্মাতা। নিজের স্বল্প বাজেটের হরর কাজ দিয়ে পরিচিতি পাওয়ার পর ‘অবসেশন’-এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, হরর ঘরানা এখনো নতুন নির্মাতাদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। সিনেমায় বিয়ারের চরিত্রে মাইকেল জনস্টনের অভিনয় মুগ্ধ করার মতো। তবে ছবির আসল প্রাণ নিকি চরিত্রে ইন্দে নাভারেটের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। জাদুর প্রভাবে বদলে যাওয়া নিকি যখন আবার স্বাভাবিকতায় ফিরে এসে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, তখন দর্শকের মনে একই সঙ্গে ভয় আর সহানুভূতির এক অদ্ভুত দোলাচল তৈরি হয়।

সিনেমাটি কেবল প্রচলিত ভূত বা অশরীরী আতঙ্কের ওপর নির্ভর করেনি। এর ভয়াবহতা মিশে আছে সম্পর্কের মনস্তত্ত্ব আর নিষ্ঠুর বাস্তবতায়। বার্কারের পরিচালনার অন্যতম গুণ হলো, তিনি ধীরে ধীরে উত্তেজনার পারদ চড়াতে জানেন। রক বারওয়েলের আবহসংগীত পুরো সিনেমাকে এক গা ছমছমে পরিবেশের চাদরে জড়িয়ে রাখে। এছাড়া সম্পাদনার ক্ষেত্রে পরিচালকের নিজস্ব শৈলী দর্শকদের মানসিক ভারসাম্যকে যেন চ্যালেঞ্জ জানায়। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে এটি এক প্রবল মানসিক নিষ্ঠুরতার গল্প, যেখানে ভুল বা সঠিকের সীমানা খুব দ্রুতই মুছে যায়।

বিজ্ঞাপন

ছবিটির কিছু দৃশ্য এতটাই নৃশংস যে, যুক্তরাষ্ট্রে এনসি-১৭ রেটিং এড়াতে নির্মাতাকে কিছু অংশ বাদ দিতে হয়েছে। বিশেষ করে পোষা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার দৃশ্যগুলো সংবেদনশীল দর্শকদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। সব মিলিয়ে ‘অবসেশন’ কেবল একটি সাধারণ হরর সিনেমা নয়, এটি আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা এবং একতরফা প্রেমের অন্ধ আবেগকে এক ভয়ংকর আয়নায় দেখার নামান্তর। যারা টান টান উত্তেজনা আর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনে ভরপুর সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের তালিকার শীর্ষে থাকা উচিত এই মাস্টারপিস।

0%
0%
0%
0%