বিটিএসের নতুন গান সুইম নিয়ে কপিরাইট অভিযোগ নাকচ করল বিগ হিট মিউজিক

বিশ্বখ্যাত কে-পপ সেনসেশন বিটিএস-এর নতুন গান ‘সুইম’-এর বিরুদ্ধে ওঠা কপিরাইট লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে উত্তাল বিনোদন দুনিয়া। গানটি চুরির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের তিন গীতিকার স্টিভ কুপার, জন স্যান্ডলার ও গ্রেলিন জনসন মার্কিন আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এই বিতর্কিত দাবিকে শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে বিটিএস-এর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বিগ হিট মিউজিক।
বিগ হিট মিউজিক এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ একতরফা এবং ভিত্তিহীন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ‘সুইম’ কোনোভাবেই অন্য কারো সৃষ্টির অনুকরণ নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ মৌলিক ও স্বাধীন সৃষ্টি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অভিযোগের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে বলে তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদীদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে তাঁরা ‘সুইম’ নামে একটি ডেমো তৈরি করেছিলেন। বিটিএস-এর নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর প্রধান সিঙ্গেলটি সেই ডেমোরই হুবহু প্রতিচ্ছবি বলে তাঁদের অভিযোগ। গানটি লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যালবামের কাজ চলার সময় বিভিন্ন সংগীত প্রযোজকের মাধ্যমে বিটিএস-এর কাছে পৌঁছেছিল বলে বাদীপক্ষের দাবি। সংগীত বিশ্লেষক আলেকজান্ডার স্টুয়ার্টও দুই গানের সুর ও ছন্দের অস্বাভাবিক মিল দেখে এটিকে ‘নকল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই মামলায় হাইব, হাইব আমেরিকা, বিগ হিট মিউজিকসহ সংশ্লিষ্ট গীতিকার ডেরিক মিলানো, জেমস এসিয়েন ও রায়ান টেডারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে বিটিএস সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়নি। বাদীরা গানের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ও সহ-লেখকের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, গত দুই মাসে হাইবের বিরুদ্ধে এটি তৃতীয় কপিরাইট মামলা। এর আগে নিউজিনস-এর গান নিয়েও একই ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত বিতর্ক আর আইনি লড়াইকে পাশ কাটিয়ে বিটিএস-এর ‘সুইম’ ইতোমধ্যেই বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে এবং ‘আরিরাং’ অ্যালবামটিও বিলবোর্ড ২০০-এর তালিকার এক নম্বরে অবস্থান করছে। অগণিত ভক্ত ও সমালোচকের নজর এখন আদালতের দিকে—দেখার বিষয়, সুরের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার হয়।
