আইনি বেড়াজালে দেবরাজ ও অদিতির ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে রহস্যের ঘনঘটা

পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের চর্চিত দম্পতি দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির ব্যক্তিগত জীবন এখন টালমাটাল। আর্থিক অনিয়ম ও আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারের পর থেকেই তাঁদের রূপকথার মতো প্রেম ও দাম্পত্যের আড়ালে থাকা নানা নাটকীয় তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। কীর্তনশিল্পী হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া অদিতির সঙ্গে দেবরাজের প্রণয়পর্ব কোনো সিনেমার চেয়ে কম নাটকীয় ছিল না।
২০১৫ সালে জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘সা রে গা মা পা’-এর মঞ্চ থেকে অদিতির তারকাখ্যাতি তুঙ্গে ওঠে। অদিতির ভক্তিগীতি ও কীর্তনের জাদুতে মুগ্ধ হয়েই তাঁর প্রেমে পড়েন বিধাননগরের তৎকালীন কাউন্সিলর দেবরাজ। শুরুর দিকে রাজনীতিবিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়াতে আগ্রহী ছিলেন না অদিতি, এমনকি দেবরাজের ফোনকলগুলোও এড়িয়ে যেতেন তিনি। তবে নাছোড়বান্দা দেবরাজ কৌশল পরিবর্তন করে সরাসরি অদিতির পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পথ বেছে নেন। দীর্ঘ ছয় মাসের নিয়মিত পারিবারিক যোগাযোগ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে অদিতির মা ও পরিবারের আস্থা অর্জন করেন তিনি। সেই অধ্যাবসায়ের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ২০১৮ সালে ইকো পার্কে রাজকীয় আয়োজনে গাঁটছড়া বাঁধেন এই জুটি।
সংসার জীবনে তাঁদের ঘরে এসেছে এক সন্তান, তবে সাম্প্রতিক আইনি জটিলতা সেই সুখের সংসারে কালো ছায়া ফেলেছে। এসটিএফ-এর হাতে দেবরাজের গ্রেফতারের ঘটনায় অদিতির নামও জড়িয়ে পড়েছে। যদিও সদ্যজাত সন্তানের মা হওয়ার সুবাদে আদালত আপাতত তাঁকে আগাম জামিন প্রদান করেছে। তবে এই স্বস্তির মাঝেও অদিতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিজেপি বিধায়ক ও আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি অদিতির দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, স্বামীর দুর্নীতির বিষয়ে অদিতি সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন এবং তাঁদের দুজনের নামেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে।
তরুণজ্যোতির মন্তব্য এখানেই থামেনি। অদিতির অতীত জীবনের বিভিন্ন ব্যক্তিগত চ্যাট ও সম্পর্কের বিষয়েও তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলোর বিষয়ে অদিতি মুন্সি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। আইনি লড়াই আর রাজনীতির মাঠের উত্তাপ যখন তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে হানা দিয়েছে, তখন ভক্তমহলে প্রশ্ন উঠেছে—আদালতের এই কঠিন সময়ে প্রিয় শিল্পীর পাশে থাকবে কি তাঁর অনুরাগীরা, নাকি বিতর্কের চোরাবালিতে হারিয়ে যাবে অদিতির গায়িকার পরিচিতি? সব মিলিয়ে, শোবিজ ও রাজনীতির এই জটিল অংকের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য।
