AdvertisementAdvertisement

উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন শুরু

সকাল থেকেই যেন উৎসবের রঙে সেজেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন বা বিএফডিসি। চেনা কর্মব্যস্ততার আবহের বদলে এদিন এফডিসির প্রতিটি কোণ হয়ে উঠেছে তারকাদের মিলনমেলা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে পুরো এলাকা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ উৎসবকে ঘিরে শিল্পীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এফডিসির প্রধান ফটক থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি প্রাঙ্গণ।

নির্বাচনী উত্তাপ ছাপিয়ে এই দিনটি যেন হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্র পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক পুনর্মিলনী। ভোটাররা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত, আবার কেউ কেউ মুঠোফোনে সেলফিতে বন্দী করছেন মুহূর্তগুলো। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে প্রিয় সহকর্মীদের, আর সেই সঙ্গে চলছে শেষ মুহূর্তের ভোট প্রার্থনা। ৫৭৩ জন ভোটারের অংশগ্রহণে এই নির্বাচনে আগামী দুই বছরের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যেমন আমেজ রয়েছে, তেমনি রয়েছে হার-জিতের মৃদু দোলাচল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভোটের মাঠে এবার দেখা মিলেছে নানান বৈচিত্র্যের। অভিনেতা শম্ভু সরকার সঞ্জয় বরাবরের মতোই নিজের স্টাইল বজায় রেখে ব্যান্ড পার্টি ও পালকি চড়ে এফডিসিতে এসে নজর কেড়েছেন সবার। অন্যদিকে, কর্মব্যস্ততার মাঝেই সকাল সকাল ভোট দিতে দেখা গেছে অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলামকে। এমন উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি এফডিসির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল বেশ কঠোর।

এবার দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা লড়াইয়ে নেমেছেন। শিবা সানু ও জয় চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্যানেল এবং মকবুল হোসেন আরমান ও রুমানা ইসলাম মুক্তির নেতৃত্বে অন্য প্যানেলটি শিল্পীদের আস্থা অর্জনে লড়ছে। শিবা–জয় প্যানেলে রোজিনা, ডি এ তায়েব ও সুব্রতর মতো তারকারা রয়েছেন, অন্যদিকে আরমান–মুক্তি প্যানেলে নূতন, ইলিয়াস কোবরা ও রিনা খানের মতো শিল্পীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের দাবি, জয়ী হলে তাঁরা শিল্পীদের পাশে থেকে কাজের পরিধি বাড়াতে চান।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নির্বাচনকে ঘিরে সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক দানা বাঁধলেও, বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ার যৌক্তিকতা দিয়ে। এছাড়া গতবারের সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবার কোনো পদে না থাকায় নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে মুখিয়ে আছেন শিল্পীরা। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই ভোটের ফলাফলেই নির্ধারিত হবে চলচ্চিত্র শিল্পের আগামী দিনের নতুন পথচলা।

0%
0%
0%
0%