বলিউডে নতুন উচ্চতায় শর্বরী বাগ আলফা ও ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা

বলিউডের নতুন প্রজন্মের অন্যতম সেনসেশন শর্বরী বাগ এখন সাফল্যের তুঙ্গে। ‘মুঞ্জা’, ‘ভেদা’ কিংবা ‘মহারাজ’-এর মতো বৈচিত্র্যময় সব চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ইমতিয়াজ আলীর নতুন চলচ্চিত্র ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’-তে নাম লেখানোর পর থেকেই শর্বরীকে নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল তুঙ্গে। সেই সঙ্গে আলিয়া ভাটের সঙ্গে যশরাজ ফিল্মসের প্রথম নারীপ্রধান স্পাই-অ্যাকশন সিনেমা ‘আলফা’-তে পর্দা ভাগ করার বিষয়টি তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বর্তমান ব্যস্ততা ও সাফল্যের আবহে এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনদর্শন নিয়ে কথা বলেছেন এই তারকা।

বিজ্ঞাপন

সাফল্য আর বক্স অফিসের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শর্বরী কিছুটা দার্শনিক হয়ে ওঠেন। ম্যাড্ডক ফিল্মসের সুপারহিট হরর-কমেডি ‘মুঞ্জা’র ১০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করা তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, সেটি তিনি অস্বীকার করেন না। শর্বরীর মতে, বক্স অফিস সিনেমার গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে, কিন্তু শিল্পের বিচার হওয়া উচিত দর্শকের ভালোবাসায়। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক সাফল্য নতুন সব কাজের দুয়ার খুলে দেয়, যা একজন শিল্পীকে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করার আত্মবিশ্বাস জোগায়। তবে বক্স অফিসের সংখ্যা নয়, বরং অভিনয়ের নিষ্ঠাই তাঁর কাছে সবসময় প্রাধান্য পায়।

দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ সিনেমায় ভালোবাসা ও বিরহের যে আখ্যান উঠে এসেছে, তা আজকের ডিজিটাল যুগের তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ প্রাসঙ্গিক। বেদাংগ রায়নার সঙ্গে পর্দা ভাগ করা এই অভিনেত্রী বিশ্বাস করেন, ভালোবাসার অনুভূতি সর্বজনীন। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম সহজতর হলেও হৃদয়ের গভীরতা বদলায়নি। ব্যক্তিজীবনের আবেগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শর্বরী ফিরে যান তাঁর শেকড়ে। মহারাষ্ট্রের মোরগাঁওয়ে নিজেদের শতবর্ষী পৈতৃক ‘ওয়াড়া’ বা আদি বাড়িতে কাটানো সময়ের স্মৃতি তাঁকে আজও আবেগপ্রবণ করে তোলে। সুযোগ পেলে তিনি সেই অতীতে ফিরে যেতে চান, যেখানে তাঁর পূর্বপুরুষদের ছোঁয়া লেগে আছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শর্বরী বেশ সচেতন। একই ধাঁচের চরিত্রে নিজেকে বন্দি রাখতে নারাজ এই অভিনেত্রী অভিনয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বজায় রাখতে চান। দর্শকদের রুচি ও সচেতনতা সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের দর্শকরা বেশ পরিপক্ক, তাঁরা মানসম্পন্ন গল্পের প্রত্যাশা করেন। তাই প্রতিটি প্রজেক্ট বাছাইয়ের সময় তিনি এমন কিছু খুঁজছেন, যা কেবল তাঁকে নয়, বরং দর্শকদেরও গভীরভাবে আন্দোলিত করবে।

বিজ্ঞাপন

সবশেষে উঠে এল সুপারস্টার আলিয়া ভাটের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা। ‘আলফা’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আলিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে দেখা যাবে তাঁকে। সহ-অভিনেত্রীর প্রশংসায় শর্বরী বলেন, আলিয়া শুধু একজন অসাধারণ অভিনেত্রীই নন, বরং এক দারুণ সহকর্মীও। কাজের ক্ষেত্রে কেবল নিজের স্বার্থটুকু না দেখে পুরো সিনেমার আউটপুট নিয়ে আলিয়ার যে দূরদর্শী ভাবনা, তা থেকে তিনি প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শিখছেন। একের পর এক চমৎকার প্রজেক্ট আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শর্বরী বাগ যে বলিউডের আগামী দিনের বড় তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছেন, তা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

0%
0%
0%
0%