ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ ভবনে নওগাঁর ভাতকুন্ডু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ভাতকুন্ডু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। জরাজীর্ণ ও ফাটল ধরা ভবনের ভেতর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনের ছাদ ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোথাও ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি সরাসরি শ্রেণিকক্ষের ভেতর চুইয়ে পড়ছে। বারান্দায় গাদাগাদি করে পাঠদান চলায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২৪৬ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে। ২০১২ সালে একটি ছোট ভবন নির্মাণ করা হলেও শিক্ষার্থীর তুলনায় তা অপ্রতুল। নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ।
প্রধান শিক্ষক মোছা. ফারহা দিবা জানান, ভবনের বেহাল দশা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হয়েছে। সিনিহা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে যে, শ্রেণিকক্ষে বসে পড়ার সময় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে তার ওপর, যা থেকে বোঝা যায় বিদ্যালয়ের বর্তমান অবকাঠামো কতটা অরক্ষিত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান জানান, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য একটি তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নতুন কক্ষ নির্মাণ ও পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
