জানুয়ারিতে খুলছে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর অবশেষে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই যাত্রার সূচনা হিসেবে আগামী জানুয়ারি মাস থেকে মাস্টার্স কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, যা দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির চিকিৎসা, একাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নগরীর ‘খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল’কে ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের প্রশাসনিক অনুমোদন মিলেছে। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া ভবনে সীমিত পরিসরে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল, যা এখন নতুন করে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রখ্যাত চিকিৎসক ও রোবোটিক সার্জন অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন জানান, বিশেষায়িত হাসপাতালটি একাডেমিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া এই অঞ্চলের চিকিৎসা খাতের জন্য এক বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এটি দেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। পর্যাপ্ত অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকায় আপাতত একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে হাসপাতালটির সীমাবদ্ধতা কাটাতে ও চিকিৎসা সেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য একশ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে ভবিষ্যতে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল, ক্যানসার ইউনিট, রোবোটিক সার্জারি সেন্টারসহ আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা সুলভ হবে এবং অত্র অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতের চিত্র আমূল বদলে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
