কালিহাতীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদের আসন না দেওয়ায় ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক এক সভায় শিক্ষকদের মঞ্চে স্থান না দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার মানোন্নয়নের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অনেক শিক্ষককে মঞ্চে জায়গা দেওয়া হয়নি। এমনকি বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়ালকে দর্শক সারির প্রথম সারি থেকে সরিয়ে পেছনের সারিতে বসতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনাকে পরিকল্পিত অবমাননা হিসেবে অভিহিত করে উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীমহল তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় প্রকৃত শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন করা হয়নি, অথচ মঞ্চে এমন অনেককে স্থান দেওয়া হয়েছে যাদের উপস্থিতির যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। অনুষ্ঠানের এমন অসংগতিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সভায় কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়াল, ড্যাব নেতা ড. শাহ আলম তালুকদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকরা এহেন আচরণের সুষ্ঠু বিচারের দাবি তুলেছেন।
