ধামরাইয়ে দখলবাজদের দাপট সওজের জমি উদ্ধারে ব্যর্থ প্রশাসন

ঢাকার ধামরাইয়ের পৌর এলাকায় অবস্থিত ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডে সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে গত ৬ জুন ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন উচ্ছেদকারী দলের সদস্যরা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আয়োজিত ওই অভিযানে উত্তেজিত হকারদের অতর্কিত হামলায় বুলডোজার চালক মনির হোসেন ও তার সহকারী আব্বাস হোসেন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বাধ্য হয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলার দুদিন পর তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদওয়ান আহমেদ রাফি এবং নয়ারহাট শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ফের অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সওজ বিভাগের তদারকির অভাবে অভিযানগুলো কেবল লোকদেখানো ‘নাটক’ হিসেবেই রয়ে যাচ্ছে। স্থায়ী পদক্ষেপ না থাকায় অর্থ ও জ্বালানি খরচ করে চালানো অভিযানের সুফল মাস না পেরোতেই দখলদারদের কব্জায় চলে যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢুলিভিটা অংশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার সরকারি জায়গা পৌরসভা ইজারা প্রদান করেছে। এই দরপত্রে বিএনপি নেতা হাবীবুর রহমান ইজারা পেলেও প্রভাবশালী চক্রটি ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। ইজারাদার হাবীবুর রহমান নিয়ম মেনে খাজনা আদায়ের দাবি করলেও রাস্তা দখল করে দোকান বসানোর বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে পৌরসভার সচিব নবীউল্লাহ নবী দাবি করেন, পৌরসভার সীমানার ভেতরে যেখানেই বাজার বসবে, সেখান থেকেই খাজনা আদায় করা হবে। অথচ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়ারহাট উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি জায়গা ইজারা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার পৌরসভার নেই এবং তারা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তা করছে। অবৈধ ইজারা বন্ধে পৌরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই আবারও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ দোকানপাটের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের এই অংশে নিয়মিত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা স্থানীয় শ্রমিক, সাধারণ পথচারী ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি করছে। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ধামরাই শাখার সভাপতি এম নাহিদ মিয়া জানিয়েছেন, প্রভাবশালী মহলের দখলবাজির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত ফুটপাতটি চিরতরে দখলমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক আল মামুন জানান, উচ্ছেদকৃত জায়গাটি গাড়ি রাখার জন্য মালিক সমিতিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তাতে সাড়া দেয়নি। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে স্থায়ী সমাধান না আসায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রেখে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের দাবি জানিয়েছেন।
