বাকৃবিতে সংঘর্ষ ও ভাঙচুর, ৪২ শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ৪২ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হলের ভেতর ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায় সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে লিখিতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগ ও প্রক্টরিয়াল বডির প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য দুটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত কেউ যদি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে তদন্তে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আশরাফুল হক ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়, যাতে অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরবর্তীকালে ১ আগস্ট মেসেঞ্জার গ্রুপে বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ ২ আগস্ট রাতে চারটি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, এতে হলের সিসিটিভি ক্যামেরা, বৈদ্যুতিক বাতি ও জানালার কাচসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
