সাঘাটায় শতবর্ষী ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় রক্ষায় স্থানীয় পরিবারের অর্ধকোটি টাকার সংস্কার উদ্যোগ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শতবর্ষী ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে মরহুম আজিতউল্লাহর পরিবার। ব্রিটিশ আমলে ১৯৪০ সালেরও আগে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অত্র অঞ্চলে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসলেও বর্তমানে এর অবকাঠামো নাজুক হয়ে পড়েছে। ভবনগুলোর ছাদ চুইয়ে পানি পড়া এবং পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, বিদ্যালয়টির হারানো জৌলুস ফেরাতে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই সংস্কার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থাও চালু করেছে পরিবারটি। ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত এই মহতী উদ্যোগ অত্র এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
সংস্কার প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক ও ১৯৬০ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জলিলুর রহমান জানান, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শামসুল আজাদ শীতল ও প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মণ্ডল এমন উদ্যোগকে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
সম্প্রতি সাঘাটা-ফুলছড়ি আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে এই সামাজিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সরকারি পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও পঞ্চায়েতপ্রধান মরহুম মকবুলার রহমান মণ্ডল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি সংস্কার শেষে আবারও তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
