পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সহকারী শিক্ষকের বিচার ও শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ চার ঘণ্টা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সহকারী শিক্ষক আকলিমা আক্তারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আন্দোলনের মুখে দিনভর বিদ্যালয়ের সব ধরনের পাঠদান কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নুর আজমের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অপেশাদার আচরণ করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে নানাভাবে হেনস্তা ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হতো। এসব ঘটনার জেরে তীব্র মানসিক চাপে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেন। ওই রাতেই তার দাফন সম্পন্ন হয়। এই আকস্মিক মৃত্যুর জন্য ওই দুই সহকারী শিক্ষককেই দায়ী করে আসছেন স্বজনরা।
নিহত প্রধান শিক্ষকের ভাগনে আব্দুস সালাম মিঠু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতন ও অপেশাদার আচরণের কারণেই তার মামার অকাল মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর পেছনে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম দাবি করেন, প্রায় ৪০ দিন আগে একটি বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, যার মীমাংসা তখনই হয়ে গেছে। এটি নিয়ে পরবর্তীতে কোনো বিরোধ ছিল না। বর্তমানে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা এবং সদর থানার পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হলে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের নিরাপত্তায় পুলিশি সহায়তায় তাদের নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদ্বয় আগামীতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হবেন কি না এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এদিকে, প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।