চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে পাওনা টাকা নিয়ে তুচ্ছ বাকবিতণ্ডার জেরে সবজি ব্যবসায়ীর হামলায় মধু (৬০) নামের এক ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। কার্পাসডাঙ্গা মুচির বটতলা এলাকায় সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মধু দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজ আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্পাসডাঙ্গা মুচির বটতলায় ভ্রাম্যমাণভাবে ফল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগে মধুর ছেলে শামীমের মোবাইলের বকেয়া টাকা নিতে এক পাওনাদার এসেছিলেন। এ সময় ফল ব্যবসায়ী মধু কিছু টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা পরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পাশের সবজি ব্যবসায়ী মামুন এই লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে গেলে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায়। উত্তেজনার একপর্যায়ে সবজি ব্যবসায়ী মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে কদবেল ফুটো করার কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার ধারালো ধাতু মধুর বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে আশপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামসুজ্জোহা জানান, মধুর বুকের ভেতর ধারালো লোহার বস্তু ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ শিরা কেটে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, ফুটপাতে ব্যবসা করার সুবাদে সামান্য বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতারে জোরেশোরে অভিযান শুরু করেছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিহতের শোকাহত পরিবার।