মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ধামাই চা-বাগানের হাতলিঘাট এলাকায় প্রায় ৪০ বিঘা আয়তনের একটি মাছের খামারে রহস্যজনকভাবে হাজার হাজার মাছ মরে ভেসে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেল থেকে খামারের পানিতে মাছের মড়ক দেখা দিলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ইলিয়াছ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও বিনিয়োগ চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখে তিনি বর্তমানে সিলেট শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী খামারি ইলিয়াছ মিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি ধামাই চা-বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টিলার ঢালে থাকা নিচু জমি ইজারা নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু করেন। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বড় আকারের মাছ বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই বৃহস্পতিবার বিকেলে খামারের তেলাপিয়া, সিলভার কার্প ও রুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। আধা কেজি থেকে তিন কেজি ওজনের মাছগুলো মরে ভেসে ওঠার দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ইলিয়াছ। তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ইলিয়াছ মিয়ার দুই ছেলে কয়েছ আহমদ ও জসিম উদ্দিন জানান, এই বিপর্যয়ে তাদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত মাছ মরে ভেসে ওঠার ধারা অব্যাহত ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, কারও সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা বা বিরোধ নেই। কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে, নাকি প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগে এমনটি ঘটল—তা নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। মৃত মাছগুলো পচন রোধে ইতিমধ্যে মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মিছবাহ উদ্দিন, যিনি জুড়ীতে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি জানান, পানিতে অক্সিজেনের স্বল্পতা বা অ্যামোনিয়া গ্যাসের আধিক্যের কারণে এমনটা হতে পারে। আবার কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে বলেও প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। খামারের পানির গুণাগুণ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিষক্রিয়া পরীক্ষার মতো উন্নত প্রযুক্তি তাদের কাছে না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, খামারের মাছের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি খামারি ইলিয়াছ মিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা প্রয়োজন। এদিকে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন দ্রুত বিচার এবং যথাযথ তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।