চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে নেওয়ার পথে বিপজ্জনক রাসায়নিকবাহী কাভার্ডভ্যানে আগুন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার পথে বিপজ্জনক রাসায়নিক বহনকারী একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আলায় গাড়িতে থাকা রাসায়নিকের ড্রামে আগুন ছড়ায়নি এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক নারায়ণগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডে ধ্বংসের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। মোট ৬টি কনটেইনার ও ৩টি কাভার্ডভ্যানে করে এসব মালামাল পরিবহন করা হচ্ছিল। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই এর মধ্যে একটি কাভার্ডভ্যানে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এর আগে শনিবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী বিপজ্জনক রাসায়নিক অপসারণের কার্যক্রম শুরু করেছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। যার অংশ হিসেবে বন্দর থেকে এসব রাসায়নিকভর্তি ৯টি কনটেইনার অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কাভার্ডভ্যানের ইঞ্জিন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। তিনি আরও জানান, গাড়িতে থাকা রাসায়নিকের ড্রামগুলোতে আগুন পৌঁছাতে পারেনি এবং এই ঘটনায় সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রাসায়নিক ধ্বংসের কার্যক্রম তদারকিতে গঠিত কমিটির সদস্যসচিব রাসেল আহমেদ জানান, যে কাভার্ডভ্যানে আগুন লেগেছিল, সেটিতে থাকা ড্রামগুলো মূলত খালি ছিল। অতীতে এসব ড্রামে রাসায়নিক সংরক্ষণ করা হলেও বর্তমানে সেগুলো নিরাপদ দূরত্বে ধ্বংসের জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন ও সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য কমিটির একটি বিশেষ দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কাভার্ডভ্যানটি বর্তমানে উদ্ধার করে কাঁচপুর থানায় সুরক্ষিত হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর রাসায়নিক পরিবহনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

০%
০%
০%
০%