চাঁদপুরের কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর শাকিব হাসান হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে কচুয়া থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হওয়া মাথার খুলি ও শরীরের হাড় ডিএনএ পরীক্ষায় শাকিবের বলে নিশ্চিত হওয়ার পর মামলার তদন্তে নেমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত শাকিব হাসান চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজী বাড়ী) এলাকার সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদেরের ছেলে। সে রাগদৈল আইএম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিল শাকিব। এ সময় বাইরে থেকে কেউ নাম ধরে ডাক দিলে সে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে শাকিবের দাদা মোন্তাজ উদ্দিন কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
খবর পেয়ে শাকিবের বাবা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ছেলেকে খুঁজতে শুরু করেন। এর মধ্যে গত ২৪ নভেম্বর স্থানীয় মোস্তফা নামে এক ব্যক্তি নিজের কৃষিজমির পাশের একটি ডোবা পরিষ্কার করার সময় মানুষের মাথার খুলি ও হাড় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও শরীরের সাতটি হাড় উদ্ধার করে এবং অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে।
উদ্ধার হওয়া আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া হাড় ও মাথার খুলি নিখোঁজ শাকিব হাসানের। ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর গত ৭ মে নিহতের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফ. ম. শাহজাহানের তত্ত্বাবধানে এবং কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৮ মে সন্ধ্যা থেকে ৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দুই কিশোর (উভয়ের বয়স ১৭) একই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, শাকিবকে পুকুরে গোসল করার সময় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানির নিচে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
রাতের আঁধারে মরদেহ তুলে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে বস্তাবন্দি করা হয় এবং ইট বেঁধে পানির নিচে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে লাশ ভেসে উঠতে না পারে।
পুলিশ আরও জানায়, শনিবার (১০ মে) গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।