বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে যে, মাদকের ছোবলে তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে এবং এটি সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ। রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তিজীবন ধ্বংসই করে না, বরং অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে সমাজের সামগ্রিক শান্তি ও শৃঙ্খলাও বিনষ্ট করে। মাদকের থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় পরিবেশের ওপর পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে ব্যাপকভাবে পলিথিন ব্যবহৃত হলেও আইন প্রয়োগের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এর ব্যবহার প্রত্যাশিত মাত্রায় কমানো সম্ভব হচ্ছে না। নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার কমাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়।
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বাসাবাড়ির আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে বিধায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মানব পাচারকে গুরুতর সামাজিক ও মানবিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসক বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষ যেন কর্মসংস্থানের আশায় পাচারকারীদের প্রলোভন ও প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এ. জেড. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান, উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম ফরিদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।