নাম ও পিতার নাম মিলে যাওয়ায় নিরপরাধ জেলের ২০ দিন কারাভোগ পটুয়াখালীতে

পটুয়াখালীর মহিপুর থানায় মামলার প্রকৃত আসামি না হয়েও নামের মিল থাকায় মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তিকে টানা কুড়ি দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে। পুলিশি পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে এই নিরপরাধ সাধারণ জেলেকে কারাভোগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।

ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেনের করা দুই লাখ تہাত্তর হাজার পাঁচশ তেরো টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী গত উনিশ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর পর তথ্য যাচাই করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে যে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি মামলার প্রকৃত আসামি নন এবং মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।

সোমবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি অবগত হয়ে জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আগামী ধার্য তারিখে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মামলার বাদীকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার জানান যে, আদালত থেকে পাঠানো গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির নাম ও বাবার নাম থাকলেও মায়ের নাম, ছবি বা মোবাইল নম্বর না থাকায় অনিচ্ছাকৃত এই ভুল হয়েছে। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে পরোয়ানায় আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় উল্লেখ করার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে সম্পূর্ণ নির্দোষ একজন মানুষকে এভাবে হয়রানি করে কুড়ি দিন কারাগারে আটকে রাখার ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভবিষ্যতে পুলিশকে আরও সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।

০%
০%
০%
০%