জাপানের নিসিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে ১১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১২.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। বল হাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ২ ওভারে ৪১ রান খরচ করায় ম্যাচটি হাতছাড়া হয় টাইগারদের।
বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করেছিল। দলের হয়ে হৃদয় ও মোসাদ্দেকের জুটি বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না। পাকিস্তানি ব্যাটারদের বিপক্ষে মোস্তাফিজুর ২ ওভারে ৪১ রান দিলেও সাইম আইয়ুবের মূল্যবান উইকেটটি তুলে নিয়েছিলেন। তবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান আটকানোয় ব্যর্থ হওয়াটা বাংলাদেশ দলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটন দাস মোস্তাফিজের পাশে দাঁড়িয়ে জানান, মোস্তাফিজ দীর্ঘদিন দলের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছেন। লিটন বলেন, “যদি আজ মোস্তাফিজ ৩টি উইকেট নিত, তবে এই প্রশ্নটি আসত না। আমার কাছে মনে হয়েছে ওই মুহূর্তে ও-ই সেরা বিকল্প ছিল, তাই আমি তাকেই বেছে নিয়েছি।” দলের পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি মিডল ওভারে অতিরিক্ত ছক্কা হজম করা এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের অভাবকে দায়ী করেছেন।
প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়েও আক্ষেপ ঝরেছে অধিনায়কের কণ্ঠে। বৃষ্টির কারণে টানা কয়েকদিন হোটেলে বন্দি থাকা এবং মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় সঠিক ছন্দে মাঠে নামা সম্ভব হয়নি। লিটন বলেন, “আমরা টানা কয়েকদিন রুমের ভেতর ছিলাম, যা কোনোভাবেই আদর্শ পরিস্থিতি নয়। উইকেটের চরিত্র বোঝা আমাদের জন্য কঠিন ছিল। লম্বা সময় খেলার বাইরে থেকে সরাসরি এসে এমন বড় ম্যাচে অসাধারণ পারফর্ম করা সব সময় সহজ নয়।”
স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে জাপানে আসা বাংলাদেশ দলের জন্য এই বিদায় অত্যন্ত হতাশাজনক। ম্যাচ শেষে লিটন দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছেড়েছিলাম, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। স্বর্ণ জেতার লক্ষ্য আমাদের ছিল, যা অর্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি। ভবিষ্যতে অন্য দলগুলোও এই জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”