অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বংসী বোলিং তোপে পড়ে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। স্পেন্সার জনসনের নিখুঁত বোলিং আর মিচেল মার্শের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকদের পাত্তাই দেয়নি সফরকারীরা। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব অর্জন করল অজিরা। মাত্র ১০৯ রানের পুঁজি নিয়ে লড়াইয়ে নামা বাংলাদেশের বোলাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের গতির সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি, যার ফলে মাত্র ১১ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ধীরগতির উইকেটে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাওহীদ হৃদয়। তবে শুরু থেকেই অজি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। ইনিংসের একদম শুরুতে তানজিদ হাসান তামিমের রান আউটের পর সাইফ হাসানের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন টাইগার ব্যাটাররা। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ২২ রান তুলতেই তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা স্বাগতিকরা পুরো ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করতে পারে মাত্র ১০৯ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬১ রান করে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক হৃদয়। অজিদের পক্ষে স্পেন্সার জনসন মাত্র ৬ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে একাই ধসিয়ে দেন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই জয়ের পথে নিয়ে যান অধিনায়ক মিচেল মার্শ। তাসকিন আহমেদের ওভারে তাণ্ডব চালিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতক হাঁকানো মার্শ মাঠ ছাড়ার আগে ২৮ বলে করেন ৬০ রান। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ দিকে টিম ডেভিডের দুই ছক্কায় ৫৪ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বিশাল জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ডে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে, যেখানে তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৬১ রানের বিপরীতে অজিদের হয়ে স্পেন্সার জনসন ২ ও নাথান এলিস ২ উইকেট শিকার করেন। জবাবে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে ম্যাচ ও সিরিজ নিজেদের করে নেয়। মিচেল মার্শের ৬০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি দলকে অনায়াস জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়ের প্রতিশোধ টি-টোয়েন্টি সিরিজে দাপটের সাথেই নিল অস্ট্রেলিয়া।