সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে মোহাম্মাদ নবীর অবদান শেষ হয়ে যায়নি, সাফ জানালেন প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস

আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের হেড কোচ রিচার্ড পাইবাস স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের জন্য মোহাম্মদ নবীর এখনও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি রয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল থেকে এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার বাদ পড়ার পর তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও, সেই ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন প্রধান কোচ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিচার্ড পাইবাস জানান যে, যে ফরম্যাটগুলোতে নবী উপলব্ধ রয়েছেন, সেখানে তিনি অবদান রাখতে সক্ষম। নবীর অসাধারণ ফিটনেস ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে কোচ বলেন যে, তিনি অবিশ্বাস্য এক ক্রিকেটার এবং নিজেকে দুর্দান্ত ফর্মে ধরে রেখেছেন। তার শৃঙ্খলা এবং আফগানিস্তানের হয়ে গড়া রেকর্ড দারুণ উজ্জ্বল। অতীতে দলের জন্য যা করেছেন এবং একজন পেশাদার হিসেবে যেভাবে নিজের পরিচর্যা করেন, তাতে তিনি দারুণভাবে সম্মানিত।

বয়স বাড়লেও নবীর শারীরিক সক্ষমতা ও জিপিএস ট্র্যাকারের ডেটা বেশ ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন পাইবাস। তিনি আরও জানান যে, একজন পরিপক্ক ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও নবীর শারীরিক গঠন খুব ভালো জায়গায় রয়েছে। যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে পাইবাস আশাবাদী যে, নবীর মধ্যে এখনও প্রচুর অবদান রাখার ক্ষমতা আছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেটের প্রতি ক্ষুধা ও নিবেদনই মূল বিষয় উল্লেখ করে তিনি নবীর ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ পথচলায় তার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সীমিত ওভারের আলোচনার পাশাপাশি টেস্ট ফরম্যাট নিয়েও নিজেদের লক্ষ্যের কথা শুনিয়েছেন আফগান কোচ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্মরণীয় পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাকে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের বর্তমান অবস্থান যাচাইয়ের দারুণ এক সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় এবং ম্যাকাইয়ে ড্রয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছিল বাংলাদেশ দল।

অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে সফলভাবে ফিরে আসা বাংলাদেশের বিপক্ষে এই লড়াইকে নিজেদের টেস্ট শক্তির মাপকাঠি বলছেন পাইবাস। লাল বলের ক্রিকেটের প্রস্তুতিতে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান যে, আফগানিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির লাল বলের প্রতিযোগিতায় খেলে আসা ক্রিকেটাররা দীর্ঘ ফরম্যাটের উপযুক্ত ফিটনেস ও উইকেটে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছে। ক্লাব ক্রিকেট নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের দ্রুতগতির বোলারদের মোকাবিলা করতে নিজস্ব খেলা ও ক্রিকেট সচেতনতা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। দল ও ব্যক্তিগত উভয় পর্যায়ে ইনিংস গড়ার সামর্থ্য বাড়ানোর মধ্য দিয়ে একটি টেস্ট দল হিসেবে তাদের এই পথচলা অব্যাহত থাকবে।

০%
০%
০%
০%