ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়মৌকুড়ি গ্রামে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদক সন্দেহের জেরে বসা এক শালিসি বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বড়মৌকুড়ি গ্রামের শাওন হোসেনকে মাদকসেবী সন্দেহে আটক করেছিল পুলিশ। পরবর্তীতে তার ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের বিষয়টি নেগেটিভ এলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার জের ধরে শাওন অভিযোগ তোলেন যে, গ্রামেরই বাসিন্দা শামীম হোসেন পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পুলিশের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। এই বিরোধের নিষ্পত্তি করতে বুধবার রাতে গ্রামে একটি শালিসি বৈঠক ডাকা হয়।
বৈঠক চলাকালে শাওন ও শামীমের পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং দ্রুত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সারুটিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহেব হোসেন জানান, শাওনকে মাদক সন্দেহে আটকের পর ডোপ টেস্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বুধবার রাতে শালিস বসেছিল এবং সেখানে উত্তেজনার একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, শালিসি বৈঠক চলাকালে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।