হারমানপ্রীত কৌরের ট্রফি ছাপিয়ে অধিনায়কত্বের দীর্ঘ উত্তরাধিকার

হারমানপ্রীত কৌর কেবল সংখ্যার পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যায় এমন কোনো সাধারণ অধিনায়ক নন; টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দেড় শোর্ধ্ব ম্যাচ খেলে তিনি নিজের নাম খোদাই করেছেন ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী অধিনায়ক হিসেবে। পাঞ্জাবের মোগা জেলার এক মফস্বল থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার শৈশবে আশপাশের মানুষের উপহাসের মুখে পড়েও নিজের স্বপ্নকে থামতে দেননি, বরং প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের খেলার ধরনেই এনে দিয়েছেন এক নতুন আগ্রাসী ও আপসহীন রূপ।

তাঁর নেতৃত্বে এই আগুনঝরা মেজাজ ও দৃঢ়তার ছাপ স্পষ্ট ছিল। সতীর্থ, ম্যাচ অফিশিয়াল কিংবা ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মেজাজ হারানোর মতো ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন কিছু নয়। অনেক সময় ভাষার রাখঢাক না রেখে সরাসরি কথা বলায় তাঁর আবেগ ভুলভাবে ব্যাখ্যা হয়েছে, কিংবা সিনিয়র খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ফিটনেসের মানদণ্ড উন্নত করার দাবি কিংবা মাঠে সতীর্থদের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়ার বিষয়গুলোকে অন্যভাবে দেখা হয়েছে। কিন্তু মাঠের খেলায় অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে হারানোর তাগিদে তাঁর ভেতরে কাজ করত কেবল জয় ছিনিয়ে নেওয়ার অদম্য জেদ।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দীপ্তি শর্মার সঙ্গে রান আউটের ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হওয়ার মুহূর্তেই আবার সতীর্থকে সান্ত্বনা দেওয়ার বিরল দৃশ্য দেখা গেছে তাঁর নেতৃত্বে। শত রান পূর্ণ করার মাইলফলকের চেয়েও তাঁর কাছে দলের জয় বড় ছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও উইকেটের মাঝে রান নেওয়ার ভুল বোঝাবুঝিতে হারলীন দেওলের সঙ্গে একইরকম উত্তেজনাকর মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল, যা হারমানপ্রীতের বাউন্ডারি হাঁকানোর পর শান্ত হয়ে আসার মধ্য দিয়ে মীমাংসা হয়।

মাঠে এই কঠোর মনোভাবের পাশাপাশি বিতর্ক ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে কখনো পিছপা হননি হারমানপ্রীত। ২০১৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মিতালি রাজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার মতো দুঃসাহসী ও সমালোচিত সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠলেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। পরবর্তীতে কোচ রমেশ পাওয়ারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং দলের স্বার্থে কঠিন সব অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তার ফলাফল মাথা পেতে নেওয়ার মাধ্যমে ভারতীয় নারী ক্রিকেটে এক অদম্য নেতৃত্বের অধ্যায় রচনা করেছেন তিনি।

০%
০%
০%
০%