সিংগাইরে পরকীয়া সন্দেহের জেরে স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে স্বামী নিহত

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় পরকীয়া প্রেমের সন্দেহের জেরে স্ত্রীর ধারালো ছুরিকাঘাতে রাশেদুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত রাশেদুল ওই গ্রামের মৃত সুরমান আলীর ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্ত্রী মোছা. হাসনা বেগম (৩৬) লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া এলাকার মো. বারেকের মেয়ে। প্রায় দেড় যুগ আগে তাদের মধ্যে বিয়ে হয় এবং এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্ত্রী হাসনা বেগম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করে আসছিলেন হাসনা বেগম। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। ঘটনার দিন ভোরে এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসনা বেগম ঘরের ভেতর থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে রাশেদুলের পেটে সজোরে আঘাত করেন। এতে তার পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে মারাত্মক জখম হন তিনি।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রাশেদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সিংগাইর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক থাকায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

০%
০%
০%
০%