মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার ব্যয়ভার লাঘব এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে শিক্ষাঋণ কর্মসূচিসহ বিশেষ ব্যাংকঋণ চালুর যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সম্বলিত এই বাজেটে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রবাসীদের কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা যেন কোনোভাবেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করাই এই ঋণের মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল তৈরির অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অব্যবহৃত অবকাঠামো সংস্কার করে পাঁচটি আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে মেডিকেল, ডেন্টাল শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কমিউনিটি মেডিসিন শিক্ষার আওতায় বাধ্যতামূলক গ্রামীণ আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য চাহিদা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা এবং সেবার মানসিকতা আরও সুদৃঢ় হবে। এটি তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে বলে নীতি-নির্ধারকদের ধারণা।
প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিদ্যমান ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এর পরিধি আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের আইনি সুরক্ষা ও জরুরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে শ্রমবাজার প্রধান দেশগুলোর দূতাবাসগুলোতে ‘বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই কেন্দ্রগুলো কারাবন্দী কিংবা নির্যাতনের শিকার কর্মীদের উদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি সহায়তা প্রদান করবে।
প্রত্যাগত প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বাজেটে বিশেষ কর্মসূচির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিদেশে মৃত্যুবরণকারী কর্মীদের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজতর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম ডিজিটাল করার বিষয়টিও বাজেটে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।