২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে আগামী এক বছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫০ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পেশকৃত এই বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুকরণ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন ও তীব্রতর ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতির বর্তমান ভঙ্গুর দশা থেকে উত্তরণ এবং টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, গৃহীত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সামষ্টিক কৌশলের সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশের সাধারণ পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৭১ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৪.১৪ শতাংশ। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নতুন বাজেটটি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি সাহসী অভিযাত্রা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বাজেট বক্তৃতায় জনমিতিক সুবিধা ও দীর্ঘজীবিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেট শুধু সংখ্যাতত্ত্বের হিসাব নয়, বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের একটি অনন্য মাধ্যম।