দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের সদ্য সমাপ্ত আর্থিক বছরে মুনাফার উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। গত মার্চ মাসে সমাপ্ত হিসাব বছর শেষে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ২৭ কোটি টাকা বা প্রায় সাত দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা তার আগের বছরে ছিল ৩৫০ কোটি টাকা। গত সোমবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি গত এপ্রিল থেকে মার্চ হিসাব বছরের জন্য ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার ফলে শেয়ারহোল্ডাররা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৫২ টাকা ৫০ পয়সা করে লভ্যাংশ পাবেন। পূর্ববর্তী বছরেও প্রতিষ্ঠানটি একই হারে লভ্যাংশ প্রদান করেছিল, যার ফলে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ঘটলেও লভ্যাংশের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই লভ্যাংশ বাবদ কোম্পানিটিকে সর্বমোট ২৫৮ কোটি টাকা বিতরণ করতে হবে, যা তাদের অর্জিত মুনাফার প্রায় ৬৮ শতাংশ।
বার্জার পেইন্টসের মালিকানা কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোম্পানিটির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ার বিদেশি মালিকানাধীন। এর ফলে ঘোষিত লভ্যাংশের একটি বিশাল অংশ, অর্থাৎ ২৩১ কোটি টাকা চলে যাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ২১ কোটি টাকা এবং ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রায় পাঁচ কোটি ২৫ লাখ টাকা লভ্যাংশ হিসেবে গ্রহণ করবেন। রেকর্ড তারিখ হিসেবে আগামী ৭ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সাধারণ সভার অনুমোদনের পর এই লভ্যাংশ বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এদিকে লভ্যাংশ ঘোষণা ও আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারদরে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের সময় কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দর ১৮ টাকা বা প্রায় এক দশমিক ২৫ শতাংশ কমে এক হাজার ৪১৫ টাকায় অবস্থান করছিল। মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ অপরিবর্তিত থাকায় এবং বাজারের সামগ্রিক অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার ছাপ দেখা দিয়েছে।