Advertisement

গ্যাস সংকটে ভালুকায় ২০ শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ শত শত শ্রমিক কর্মহীন

ময়মনসিংহের ভালুকায় তীব্র গ্যাস সংকটের কবলে পড়ে অচল হয়ে পড়েছে অন্তত ২০টি শিল্পকারখানা। চাহিদার তুলনায় গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন কার্যক্রম। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে শ্রমিকদের দিনের শুরুতেই ছুটি দিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শিল্প পুলিশ-৫ ময়মনসিংহ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, এই শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। তবে বর্তমানে গ্যাসের চাপ এতটাই নিম্নমুখী যে, কারখানাগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও সুতা উৎপাদনকারী স্পিনিং মিলগুলো সবচেয়ে নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টোয়েটা স্পিনিং মিলসের ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে, একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে সীমা স্পিনিং মিলস, বাশার স্পিনিং ও ডেল্টা স্পিনার্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে যখন মাহাদি সোয়েটার্স, সুলতানা সোয়েটার্স ও লিজ ফ্যাশনসহ অন্তত ২০টি কারখানা গ্যাসের অভাবে দুপুরের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের অনেক মালিক জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা চালালেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় স্থানীয় কর্মসংস্থান বাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, ভালুকা এলাকায় সাধারণত ১৪০ থেকে ১৫০ পিএসআই চাপের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় কারখানার বয়লার ও ফার্নেস চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও বহু কারখানা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।

বিজ্ঞাপন

এহেন পরিস্থিতিতে দিশেহারা শ্রমিকরা তাদের জীবিকা রক্ষার তাগিদে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। উৎপাদন সচল রাখতে এবং শ্রমিকদের রুটি-রুজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

0%
0%
0%
0%