ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের বৈঠক নিয়ে বিভ্রান্তি ও সাত দফা দাবি পেশ

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট নিরসন ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে সক্রিয় ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠক নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ফোরামের প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গভর্নর নন, বরং ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদের সঙ্গে ফোরামের নেতারা আলোচনা করেছেন।

বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রাথমিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহক ফোরাম দাবি করেছিল যে, তাদের প্রতিনিধিদল গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সেখানে ব্যাংকটির সংস্কারসহ সাত দফা দাবি নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে। তবে সন্ধ্যায় সংগঠনটি একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে জানায়, বেলা ১১টার দিকে তারা মূলত ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ইসমাইল হোসেন উপস্থিত ছিলেন এবং ফোরামের পক্ষে আহ্বায়ক নুর উন নবী ও সদস্যসচিব মুতাছিম বিল্লাহ আলোচনায় অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, গভর্নরের সঙ্গে বুধবার কোনো বৈঠকের ঘটনা ঘটেনি।

বৈঠকে উপস্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকটির জন্য অবিলম্বে একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা এবং ২০১৭ সালে হস্তান্তরিত মালিকানা প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। এছাড়া, বিদায়ী সরকারের আমলে এস আলমসহ যারা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ফোরাম। একইসঙ্গে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিশেষ টাস্কফোর্সের সক্রিয়তা এবং অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে লুটেরাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে জনমনে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে গ্রাহক ফোরাম। এছাড়া, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধন করে চিহ্নিত লুটেরা ও তাদের সুবিধাভোগীদের পরিচালনা পর্ষদে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। পরিশেষে, জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন ফোরামের নেতারা।

০%
০%
০%
০%