জ্বালানির দাম কমলেও কমছে না বিমান ভাড়া মুনাফায় মত্ত এয়ারলাইন্সগুলো

ইরানে সংঘাতের শুরুর কয়েক সপ্তাহে জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক বাজারমূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলো তাদের পরিচালন ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খায়। এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সরাসরি যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বিমান সংস্থাগুলো ভাড়া বৃদ্ধি, ফ্লাইট সংখ্যা সংকোচন ও লাগেজ ফি বাড়ানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ডেলটা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এড বাস্টিয়ান জানান, শুধুমাত্র গত প্রান্তিকেই জ্বালানি খাতে তাদের অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার গুনতে হয়েছে।

তবে গত দুই মাসে জেট ফুয়েলের বাজারে স্বস্তি ফিরে এলেও বিমান ভাড়া কমানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম এপ্রিলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেলেও বিমান সংস্থাগুলো তাদের ভাড়ার হার অপরিবর্তিত রেখেছে। ডয়চে ব্যাংক সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এখনো সব ধরনের বিমান ভাড়া ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে এবং বসন্তের পর থেকে অন্তত আটবার এই ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে।

বিমান সংস্থাগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা স্পষ্টতই স্বীকার করেছেন যে, টিকিটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখন জ্বালানি খরচের চেয়ে বাজারের চাহিদা ও আসনসংখ্যার ভারসাম্যকেই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব জর্ডানের মতে, টিকিটের দাম কোনো গাণিতিক সূত্রের ওপর নয়, বরং বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। এছাড়া বাজারে আসনসংখ্যার সংকট তৈরি হওয়ায় অনেক কম জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা ভাড়ার আকাশচুম্বী অবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করছে।

যদিও জেট ফুয়েল বিমান শিল্পের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যয় খাত এবং বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার জ্বালানি বাবদ ব্যয় করেছে, তথাপি এই উচ্চ ভাড়া থেকে অর্জিত মুনাফা ওই ব্যয়কে ছাপিয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। ডয়চে ব্যাংকের বিমান বিশ্লেষক মাইক লিনেনবার্গের মতে, কোভিড মহামারীর পর অনেক এয়ারলাইনস এখনো টেকসই মুনাফায় ফিরতে পারেনি, তাই ছোট বিমান সংস্থাগুলোর নগদ প্রবাহ বজায় রাখার জন্য এই বাড়তি ভাড়া অব্যাহত রাখা কৌশলগতভাবে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুম শেষ হলে শরৎকালে টিকিটের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আগের তুলনায় উচ্চ পর্যায়েই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একবার বর্ধিত মাশুল ও লাগেজ ফি চালু হলে তা সহজে প্রত্যাহার করা হয় না। অধিকাংশ যাত্রীই এই ক্রমবর্ধমান খরচের সাথে মানিয়ে নিচ্ছেন, যদিও তারা সেবার মানের অবনতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। তবুও ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে যাত্রীসংখ্যায় বড় ধরনের ভাটা পড়ার কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখছেন না বাজার সংশ্লিষ্টরা।

০%
০%
০%
০%