বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধের সময়সীমা রাত ৮টা নির্ধারণ করল সরকার

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সারা দেশের বিপণিবিতান, মার্কেট ও সব ধরনের দোকানপাট খোলা রাখার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারের নতুন এই নির্দেশনার আওতায় সব ধরনের বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান এবং অন্যান্য জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে এই সময়সীমার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। মূলত বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রভাব মোকাবিলা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যেই সরকার এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেই সময়সীমা এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা নির্ধারণ করা হলো। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহের বৈশ্বিক পথগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় দেশের অভ্যন্তরেও জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্মরণ করা যেতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অস্থিরতা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ওই সময় সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস ও দোকানপাট বন্ধের বিষয়ে বিভিন্ন ধাপে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর আবেদন থাকলেও বর্তমান জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে সরকার নির্ধারিত সময়সীমা মেনেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।
