যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি আমদানি ও সারসহ নিত্যপণ্য ক্রয়ে সরকারি অনুমোদন

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বুধবারের সভায় ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে এই এলএনজি সংগ্রহের চুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা দীর্ঘমেয়াদী এই প্রস্তাবটিসহ মোট ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে ছয় কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এরপর ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি সরবরাহ করবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে জাপান-কোরিয়া মার্কারের দামের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম যুক্ত করে। একই সাথে ২০২৬ সালের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস এলএনজি, চীনের চায়না রানজে হোল্ডিংস গ্রুপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডারাব ইনকরপোরেটেড থেকে আরও ৮ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বড় ধরনের আমদানির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে এই সভায়। এর মধ্যে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে দুই লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এছাড়া ভিয়েতনাম থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৪৩৬ মার্কিন ডলার মূল্যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নাবিল ফুডস থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা টিসিবির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছানো হবে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার একটি বড় প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস এই ট্যাবগুলো সরবরাহ করবে। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ফেনী সড়ক বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের পুনঃদরপত্র অনুমোদন করা হয়েছে। কৃষি, খাদ্য, শিল্প, বাণিজ্য এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে তা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
