সামরিক সংঘাত এড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধ কৌশলে ট্রাম্প

ইরানের ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের মাধ্যমে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর কৌশল বেছে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বস্তি এনে দিয়েছে। সম্প্রতি প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের এই নতুন কৌশলগত অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর প্রত্যক্ষ সামরিক আগ্রাসনের চেয়ে ‘ধীর নীতি’ অবলম্বন করছে। তিনি জানান, গত এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার ফলে তারা নিজেদের সৈন্যদের বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ ডলারের সামান্য ওপরে অবস্থান করায় মার্কিন ভোক্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই লাঘব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আলোচনা একটি বড় সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, একটি নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে উভয় পক্ষই সমঝোতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত এই কৌশলগত জলপথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে না।
এর আগে গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে ভেঙে গেলে অঞ্চলে পুনরায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পৃথক নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
চলতি সংকটের মধ্যেই গাজা ও লেবাননসহ বহুমাত্রিক ফ্রন্টে যুদ্ধ থামানোর মার্কিন প্রচেষ্টার ধীরগতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিকে একটি জটিল দাবা খেলার সঙ্গে তুলনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, শেষ পর্যন্ত এই অর্থনৈতিক কৌশল ওয়াশিংটনের অনুকূলেই কাজ করবে।
