AdvertisementAdvertisement

দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হার রেকর্ড

গত বাইশ বছরের ইতিহাসে দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা বিগত দুই দশকের অধিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এই নজিরবিহীন ধীরগতি জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ শতাংশ, যা থেকে উত্তরণ তো দূরের কথা, বরং পরিস্থিতির আরও অবনমন ঘটেছে। টানা তিন বছর ধরে উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত হওয়ার এই প্রবণতা সরকারি বিনিয়োগ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিদায়ী অর্থবছরে তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল, সেখানে পরবর্তী অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকায় এবং সবশেষ অর্থবছরে তা আরও হ্রাস পেয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। বিগত দুই দশকে যেখানে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৮০ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে গত দুই অর্থবছরে তা ৭০ শতাংশের নিচেই রয়ে গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এই মন্থর গতির পেছনে নির্বাচনকালীন অস্থিরতা, প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের নতুন নীতি এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। বিশেষ করে সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমে চরম ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে, যেখানে বরাদ্দকৃত ২০ লাখ টাকার বিপরীতে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হারও আশঙ্কাজনকভাবে নিম্নমুখী।

0%
0%
0%
0%