AdvertisementAdvertisement

সরকারি কর্মচারীদের নবম বেতন কাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নে সক্রিয় সরকার

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই এর প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করা হবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ কথা জানান। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি ও নতুন বেতনকাঠামোর বাস্তবায়ন নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তবে সরকার এই দুই বিষয়কে সম্পূর্ণ আলাদা হিসেবে দেখছে।

গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়, যারা নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করেছে। এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা যুক্ত রয়েছেন। এর আগে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বর্তমান কাঠামোতে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারকে প্রতি বছর ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। জাকির আহমেদ খান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ন্যাসিমুল গনি নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রাথমিকভাবে তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের কথা বললেও, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরে ভাতা প্রদানের একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আইএমএফের ঢাকা সফরকারী প্রতিনিধি দল রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। চলতি অর্থবছরের বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই বর্ধিত বরাদ্দের একটি বিশাল অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতনকাঠামোর আর্থিক চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হবে।

0%
0%
0%
0%