নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের উদ্যোগ সরকারের

দেশের নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানির বৈশ্বিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো পণ্যের সম্ভাব্য ঘাটতি সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে সরকার সঠিক সময়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ই-কমার্স বাস্তবায়নবিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ পরিকল্পনার কথা জানান। বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানিনির্ভর পণ্যের মধ্যে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, মূলত সরবরাহ সংকটের কারণেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কোনো উৎসে সমস্যা দেখা দিলে যেন বাজারে পণ্যের ঘাটতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার চেয়েও জরুরি হলো বাজার ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, যা সরবরাহ চেইন সচল রাখার মাধ্যমেই সম্ভব।
প্রস্তাবিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্মটি গত ১০ বছরের উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্তের জন্য যে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, নতুন এই প্রযুক্তি তা কমিয়ে আনবে। কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সভায় জানানো হয়েছে।
ডাল ও পেঁয়াজের মতো কৃষিপণ্যের মৌসুমি ঘাটতি মোকাবিলায় ফসল ঘরে ওঠার আগেই আমদানির প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, যে দেশগুলো থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, তাদের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সক্ষমতাও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সভায় ই-কমার্স খাতের আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
