২০২৭ সালের মধ্যে বহরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস

আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে ২১টি অত্যাধুনিক বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ১২ বছর পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণে কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুট মিলিয়ে সংস্থাটি প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হতে যাওয়া ২১টি নতুন উড়োজাহাজের মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এনজি মডেলের। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিনির্ভর এই উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত হবে। বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং এবং মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাংয়ের মতো নতুন গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারা।

২০১৪ সালে যশোর রুট দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা বর্তমানে ২৫টি উড়োজাহাজ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। নিরাপত্তা ও পরিচালন দক্ষতায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পাশাপাশি সংস্থাটি স্বাধীনতার পর প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে চীনের বিভিন্ন গন্তব্য, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অবতরণের পর ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে তারা।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে রাজস্ব প্রদানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এই সংস্থাটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক আকাশপথে ইউএস-বাংলা ও রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশের সম্মিলিত বাজার হিস্যা প্রায় ২৫ শতাংশ, যেখানে বাকি ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো। স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়সহ সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%