ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এই পতনের হার শীর্ষ ১০টি রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ, যা দেশের পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে মোট পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৩৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ইউরো। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৭ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক রপ্তানি হয়েছে। পরিমাণগত দিক থেকেও রপ্তানি ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫২ কোটি কেজিতে নেমে এসেছে, যা সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতির অবনতিকেই নির্দেশ করে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার অনেক বেশি। আলোচ্য সময়ে চীনের রপ্তানি ৪ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি মাত্র ১ দশমিক ৫১ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, রপ্তানি করা পোশাকের গড় মূল্য হ্রাসের দিক থেকেও বাংলাদেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পোশাকের গড় মূল্য ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ১৩ দশমিক ৯৬ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ভিয়েতনাম, তুরস্ক এবং কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো তাদের পোশাকের গড় মূল্য বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।

রপ্তানি বাণিজ্যে এই বিপর্যয়ের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক সংকট ছাড়াও অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু কারণ দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি আরশাদ জামাল জানান, জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়াও ব্যাংকিং খাতে ঋণপত্র খোলার জটিলতায় মাঝারি কারখানাগুলো কাঁচামাল আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলছেন, ক্রয়াদেশ ধরে রাখার জন্য বর্তমানে যে অসুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কম দামে পণ্য সরবরাহের প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। একবার হাতছাড়া হওয়া বাজার ফিরে পেতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই সংকট উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি নীতি সহায়তা এবং শিল্পের কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

0%
0%
0%
0%