জনস্বার্থ রক্ষায় আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তির পথে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত ঋণ কর্মসূচিকে জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের স্বার্থ সমুন্নত রেখেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে ১২ সদস্যের আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা জানান।
আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলটি বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে। এদিন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। যদিও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় যোগ দেওয়ার কারণে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলের নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।
নতুন এই কর্মসূচির আওতায় সরকার তিন বছর মেয়াদে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের প্রত্যাশা করছে। এর আগে ২০২৩ সালে আগের সরকার ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ষষ্ঠ কিস্তি আর পাওয়া যায়নি। সরকার এখন নতুন করে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল ঋণ পাওয়াই সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং সংস্কারের পথে হাঁটার সময় দেশের বাস্তবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ৯ জুন আইএমএফকে দেওয়া চিঠিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে অতীতের কিছু শর্ত বাস্তবায়ন কঠিন ছিল। বর্তমানে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়াতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন ভিসা নীতি প্রণয়নের কাজও জোরেশোরে চলছে। আধুনিক ও সেবামুখী এই নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি কাজ করছে। এর ফলে পর্যটক, বিনিয়োগকারী ও দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে বলে সরকার আশা করছে।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চলমান আলোচনায় সামষ্টিক অর্থনীতির নানা দিক উঠে এসেছে। এর মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় সহনশীলতা ও টেকসই সুবিধা বা আরএসএফ কর্মসূচির কাঠামো ও শর্তাবলী পর্যালোচনার পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কাঠামো ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নিবিড় আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া রাজস্ব আহরণ, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
