ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় করতে এমডিআর শূন্য করার সুপারিশ ও অর্থ স্থানান্তর ফ্রি করার দাবি

নগদ টাকাবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেনব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর শূন্য করার পাশাপাশি ব্যাংক, এমএফএস ও পিএসপিগুলোর মধ্যে অর্থ স্থানান্তর সম্পূর্ণ ফ্রি করার জোরালো দাবি উঠেছে। ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক নানামুখী প্রচার চালালেও ব্যবসায়ীদের ওপর ১ শতাংশ মাশুল আরোপের সিদ্ধান্তটি বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেন প্রসারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রণোদনার পরিবর্তে মাশুল আরোপের এই নীতি নগদবিহীন লেনদেনের স্বপ্নকে আকাশকুসুম কল্পনায় পরিণত করতে পারে।
কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন প্রক্রিয়ায় মার্চেন্ট, গ্রাহক এবং ব্যাংক বা এমএফএস—এই তিন পক্ষ জড়িত। বর্তমানে প্রচলিত নিয়মে কোনো মার্চেন্ট ১০০০ টাকার পণ্য বিক্রি করলে এমডিআর হিসেবে ১০ টাকা কেটে রাখা হয়। এই লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং ও ইসুয়িং ব্যাংকের মধ্যে ইন্টারচেঞ্জ ফি বা আইআরএফ-এর মাধ্যমে লাভ বণ্টিত হলেও মূল আর্থিক বোঝাটি চাপছে দোকানদারের ওপর। অথচ ভারত ও নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে নগদবিহীন অর্থনীতি উৎসাহিত করতে এমডিআর শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নেপালের বৃহত্তম এমএফএস প্রতিষ্ঠান ইসেওয়া-র দৃষ্টান্ত টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিউআর কোড লেনদেনে সরাসরি মুনাফার চেয়ে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত স্বল্প খরচের আমানত বা লো-কোস্ট ডিপোজিটই ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতাদের দীর্ঘমেয়াদী আয়ের উৎস হওয়া উচিত। নেপাল ও ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এজেন্টনির্ভরতা কমিয়ে ব্যাংকভিত্তিক স্থানান্তরকে জনপ্রিয় করা হয়েছে, যেখানে এ ধরনের লেনদেন সম্পূর্ণ বিনা খরচে সম্পন্ন হয়। এর ফলে তাদের এমএফএস খাতের ৯০ শতাংশ অর্থায়ন এখন সরাসরি ব্যাংক স্থানান্তর থেকে আসে।
বাংলাদেশে এমএফএস ও ব্যাংকিং সেবার ইন্টার-অপারেটিবিলিটি বা আন্তঃসংযোগ স্থাপনে দীর্ঘসূত্রতা এবং এজেন্টনির্ভরতার ফলে ডিজিটাল অর্থনীতি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে না। একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠানের বাজারের বড় অংশ দখল করে রাখার বিষয়টিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেলিযোগাযোগ খাতের মতো ব্যাংকিং ডোমেইনেও ‘সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার’ বা এসএমপি আইনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।
পরিশেষে, ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে হলে ডিম আগে না মুরগি আগে—এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত এমডিআর জিরো করার কোনো বিকল্প নেই। এমএফএস কোম্পানিগুলোর এজেন্ট নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমকে উৎসাহিত করতে হবে। ক্যাশ-ইনের মাধ্যম বিবেচনায় নিয়ে এমডিআর নির্ধারণ না করে বরং গ্রাহক ও মার্চেন্টদের স্বস্তি প্রদানই হওয়া উচিত দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের মূল লক্ষ্য।
