যুদ্ধ অবসানের আশায় বিশ্ববাজারে তেলের বড় পতন, ব্যারেলপ্রতি ৭৮.২৪ ডলার

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের জোর গুঞ্জনে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্থিতিশীলতার আভাস মিলেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে গত মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বুধবার ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮.২৪ ডলারে, যা গত তিন দিনের দরপতনের ধারাবাহিকতা মাত্র।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতিতে সেই অস্থিরতা কেটে গেছে এবং বর্তমান তেলের মূল্য যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে মাত্র ৭ শতাংশ বেশি রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত চার কার্যদিবসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১৭ ডলার হ্রাস পেয়েছে, যা সরবরাহ সংকট কেটে যাওয়ার পক্ষে বিনিয়োগকারীদের জোরালো আস্থার প্রকাশ ঘটায়।
লন্ডনের পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেছেন। তবে সিঙ্গাপুরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভান্দা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি আল জাজিরাকে বলেন, তেলের এই দরপতন মূলত সাময়িক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের ফল। হরমুজ প্রণালী চালুর বিষয়ে বাজারে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার সম্ভাব্য জটিলতাগুলো এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে তার অবরোধ প্রত্যাহার করবে, যার বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। উল্লেখ্য, এই উত্তেজনার কারণে প্রণালীটি দিয়ে নৌযান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ১৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল।
চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে ৫০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ। এ ছাড়া সমুদ্রপথটি সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করে নিরাপদ করতে নৌবাহিনীর অন্তত কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।
আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব স্টিফেন কটন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জেনেভার চুক্তিটি হবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি সূচনা মাত্র। আটকে থাকা জাহাজের জট এবং নাবিকদের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কারণে নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে বেশ কয়েক সপ্তাহ বা মাস পেরিয়ে যেতে পারে।
