কৃষি খাতে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উৎপাদন ব্যয় কমাতে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়ের ঘোষণা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে কৃষি খাতে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার, কীটনাশক ও সেচ সরঞ্জামের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের বড় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনায় ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, দেশীয় তেল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও বীজ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ১০ বছর মেয়াদী কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে কীটনাশক আমদানিতে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার এবং উৎপাদনের কাঁচামালে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী পর্যায়ে সার সরবরাহে বিদ্যমান ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি তুলে দেওয়ায় এবং জিংক অ্যাশ আমদানিতে শুল্ক সুবিধা প্রদান করায় সার সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।

প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের উন্নয়নেও বিশেষ নজর দিয়েছে সরকার। পশুখাদ্য ও জেনেরিক ভেটেরিনারি ওষুধ আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি পোলট্রি খাতের আধুনিকায়নে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতেও কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষিঋণ মওকুফ বাবদ ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শস্য, মৎস্য ও পশুপালনে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। ডাল, তেলবীজ ও ভুট্টা চাষে ৪ শতাংশ এবং পার্বত্য অঞ্চলে ৫ শতাংশ নমনীয় সুদে ঋণসুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

যদিও কৃষি খাতে নানামুখী প্রণোদনার প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে অর্থনীতিবিদরা সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় কৃষি বরাদ্দের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন জানান, চলতি অর্থবছরের তুলনায় কৃষিখাতের বরাদ্দ অর্থের অঙ্কে বাড়লেও, মোট বাজেটের তুলনায় এর অংশ ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশে নেমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তিনি মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেটে কৃষির গুরুত্ব অনুযায়ী আনুপাতিক বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান অবশ্য শুল্ক ও কর হ্রাসের উদ্যোগকে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কেবল নীতি গ্রহণই যথেষ্ট নয়; কর ছাড়ের সুবিধা যেন শেষ পর্যন্ত প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো কৃষি ও মৎস্যবিমা চালুর প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

0%
0%
0%
0%